"ওমুকে জিপিএ ৫ পেয়েছে, তুমি কেন পেলে না?" — এই একটি প্রশ্ন সন্তানের আত্মবিশ্বাস চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছে।
শিশু মনে করে, "আমি যথেষ্ট নই" (I am not enough)। তার মনে বিশ্বাস জন্মে যে বাবা-মায়ের ভালোবাসা শর্তযুক্ত (Conditional Love)।
ভাই-বোনের মধ্যে আজীবন রেষারেষি তৈরি হয়। ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের মতো তাদের মনেও হিংসা জন্ম নেয়।
সন্তান বাবা-মাকে 'নিরাপদ আশ্রয়' না ভেবে 'বিচারক' বা 'সমালোচক' হিসেবে দেখতে শুরু করে। বৃদ্ধ বয়সে তারা দায়িত্ব নিতে চায় না।
আপনার সন্তান কি এই আচরণগুলো করছে?
"আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার সন্তানদের মাঝে ইনসাফ (ন্যায়বিচার) করো।"
মেধা, সৌন্দর্য, উচ্চতা—সবই আল্লাহর বণ্টনকৃত রিজিক। তুলনা করা মানে আল্লাহর বণ্টনের সমালোচনা করা।
রাসুল (সা.) খালিদ (রা.)-কে যোদ্ধা হিসেবে এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-কে জ্ঞানী হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। সবাইকে এক পাল্লায় মাপেননি।
তুলনা না করে 'প্রচেষ্টা' বা এফোর্ট-এর প্রশংসা করুন। "তুমি ফার্স্ট হয়েছো" না বলে বলুন "তুমি অনেক মেহনত করেছো"।
"রাজুর চেয়ে ভালো করেছো" না বলে বলুন "তোমার আঁকা ছবিটাতে লাল রং খুব সুন্দর হয়েছে"। এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
গোলাপ আর জবা ফুল যেমন ভিন্ন সময়ে ফোটে, তেমনি প্রতিটি শিশুর বিকাশের সময়রেখা ভিন্ন। আপেল গাছ থেকে কমলা আশা করা বোকামি।
সন্তানের কাছে ক্ষমা চান। বলুন, "আমি তোমাকে ভালোবাসি, তুমি যেমন, তাতেই আমি খুশি।"
সন্তানের বিশেষ গুণটি খুঁজে বের করুন এবং সেটিতে তাকে উৎসাহিত করুন।
গল্পের মাধ্যমে নৈতিকতা শেখান, যেখানে কোনো তুলনা নেই, আছে কেবল ভালো হওয়ার অনুপ্রেরণা।